ডায়মন্ড হারবারে ‘নতুন সিংহম’!

Spread the love

Simit Kumar Sen

দুবেলা, সীমিত কুমার সেন: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার ও ফালতা এলাকা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা, যিনি নির্বাচন কমিশনের তরফে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। অতীতে ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবে পরিচিত এই আধিকারিকের আগমন ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক টানাপোড়েন।

নির্বাচন কমিশন (ECI) ডায়মন্ড হারবারের মতো সংবেদনশীল এলাকায় শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে অজয় পাল শর্মাকে নিয়োগ করে। তাঁর মূল দায়িত্ব হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা, প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাজের উপর নজর রাখা। কমিশনের তরফে স্পষ্ট বার্তা ছিল, কোনোভাবেই ভোট প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হতে দেওয়া যাবে না। দায়িত্ব নেওয়ার পরই মাঠে নেমে পড়েন অজয় পাল শর্মা। ফালতা এলাকায় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। সেখানে দাঁড়িয়েই কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দেন যে কোনোভাবেই ভোটারদের ভয় দেখানো বা প্রভাবিত করার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। এই ঘটনার একটি ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়, যেখানে তাঁকে একেবারে ‘দাবাং’ মেজাজে দেখা যায়। এরপর থেকেই স্থানীয়দের একাংশ তাঁকে ‘নতুন সিংহম’ বলে অভিহিত করতে শুরু করেন।

A ‘New Singham’ in Diamond Harbour!

তবে এই কড়া অবস্থানকে ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ তোলে, এই পুলিশ পর্যবেক্ষক ভোটারদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করছেন। তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, জাহাঙ্গির খানের পরিবারকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই ইস্যুতে সরব হন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও শেয়ার করে প্রশ্ন করেন যে একজন নির্বাচন পর্যবেক্ষক কি এইভাবে ‘হুমকি’ দিতে পারেন? অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। কমিশনের মতে, ডায়মন্ড হারবারে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি বিবেচনায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল। ইতিমধ্যেই ওই এলাকার অশান্ত পরিস্থিতির জন্য ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার, এসডিপিও-সহ মোট পাঁচজন পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এতে স্পষ্ট, কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করতে নারাজ নির্বাচন কমিশন।

A ‘New Singham’ in Diamond Harbour!1
A ‘New Singham’ in Diamond Harbour!1

অজয় পাল শর্মার অতীত অভিজ্ঞতাও এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উত্তরপ্রদেশে তাঁর কর্মজীবনে একাধিক কঠোর অভিযানের জন্য তিনি পরিচিত। অপরাধ দমনে দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যই তাঁকে এই সংবেদনশীল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ডায়মন্ড হারবার বরাবরই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকা। তাই এখানে ভোটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। তবে এবারের পরিস্থিতিতে কমিশনের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং অজয় পাল শর্মার মতো কড়া অফিসারের উপস্থিতি পুরো চিত্রটাই বদলে দিয়েছে। একদিকে যেমন রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতিও বেড়েছে।

সব মিলিয়ে, ডায়মন্ড হারবারে এখন প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও রাজনৈতিক বিতর্ক দুই চরমে। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একদম স্পষ্ট, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট। কিন্তু সেই পথে অজয় পাল শর্মার কড়া ভূমিকা যে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, ভোটের দিনে এই উত্তেজনার প্রভাব কতটা পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের এই গুরুত্বপূর্ণ পর্ব কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *