দুবেলা, রিয়া বিশ্বাস: দেশের রাজনীতিতে মতাদর্শগত বিরোধের পাশাপাশি এবার সংসদে একজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানীকে নিয়ে মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। মাদ্রাজ আইআইটির অধিকর্তা অধ্যাপক ভি. কামাকোটি-কে ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগ উঠেছে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রার বিরুদ্ধে। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বাদানুবাদ।
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা একটি কমিটি গঠন এবং তার সদস্যদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে অধ্যাপক কামাকোটির নাম উঠে আসে এবং তাঁকে নিয়ে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধীদের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধিতার ক্ষেত্রে দেশের একজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানীকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা অনুচিত।
অধ্যাপক ভি. কামাকোটি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার বিজ্ঞান ক্ষেত্রে একজন পরিচিত বিশেষজ্ঞ। তিনি কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডক্টরেট এবং মাদ্রাজ আইআইটির অধিকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও দেশীয় প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টর ও মাইক্রোপ্রসেসর সংক্রান্ত গবেষণার ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে জানা যায়। অন্যদিকে, ২০২১ সালের একটি অনুষ্ঠানে অধ্যাপক কামাকোটির গোমূত্রের উপকারিতা নিয়ে বক্তব্য রাখার প্রসঙ্গ সামনে এনে তাঁর সমালোচনা করা হচ্ছে। সেই বক্তব্যের সূত্র ধরেই তাঁকে ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে এগিয়ে আসেন বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর। তিনি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সম্মান করা উচিত। একইসঙ্গে তিনি অধ্যাপক কামাকোটির যোগ্যতা ও অবদানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে কংগ্রেসকে নিশানা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার উত্তপ্ত হয়েছে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ।
একদিকে কংগ্রেসের বক্তব্যকে সমর্থন করে অনেকে কমিটির গঠন ও সদস্যদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধিতা করতে গিয়ে একজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানীকে অপমান করা হয়েছে। তবে সংসদে একজন বিজ্ঞানীকে নিয়ে এমন মন্তব্য কতটা যুক্তিসঙ্গত এবং রাজনৈতিক বিতর্কে ব্যক্তিগত কটাক্ষের সীমা কোথায় হওয়া উচিত তা নিয়েই এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।
