কৃত্রিম সূর্য তৈরিতে বড় সাফল্যের দাবি চীনের, বিজ্ঞান জগতে নতুন দিগন্তের আশা

Spread the love

দুবেলা, রিয়া বিশ্বাস: পৃথিবীর সবচেয়ে প্রধান বড় নক্ষত্র সূর্য। পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় আলো ও তাপের প্রধান উৎস এই সূর্যই। কোটি কোটি বছর ধরে সূর্যের শক্তির ওপর নির্ভর করেই টিকে রয়েছে মানবসভ্যতা। তবে এবার সেই সূর্যের শক্তিকেই কৃত্রিমভাবে পৃথিবীতে তৈরি করার পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করেছে চীন।

দীর্ঘদিনের গবেষণা ও পরীক্ষার পর চীনের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম সূর্য তৈরির প্রকল্পে তারা গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছেন। চীনা বিজ্ঞান একাডেমির ইনস্টিটিউট অব প্লাজমা ফিজিক্সের বিজ্ঞানীরা একটি সুপারকন্ডাক্টিং ফিউশন ম্যাগনেট তৈরি ও পরীক্ষায় সফল হওয়ার দাবি করেছেন, যা ভবিষ্যতের ফিউশন রিয়াক্টরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। জানা গেছে, এই বিশাল কাঠামোর দৈর্ঘ্য প্রায় ২১ মিটার, প্রস্থ ১২ মিটার এবং ওজন প্রায় ৫৮২ টন। এর মূল লক্ষ্য হলো নিউক্লিয়ার ফিউশন বা পারমাণবিক সংমিশ্রণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ শক্তি উৎপাদন করা। সূর্যের অভ্যন্তরে যে প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন হয়, পৃথিবীতেও সেই একই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিতভাবে ঘটানোর চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।

এই পরীক্ষায় প্লাজমার তাপমাত্রা প্রায় ১৫ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রারও প্রায় দশ গুণ বেশি। এত উচ্চ তাপমাত্রায় প্লাজমাকে স্থিতিশীল রাখা এবং নিরাপদভাবে নিয়ন্ত্রণ করাই এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম সূর্য প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে সীমাহীন, পরিবেশবান্ধব ও কার্বনমুক্ত শক্তির নতুন যুগের সূচনা হতে পারে। তবে এখনও এই প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে বহু গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাকি রয়েছে।

চীনের বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই প্রকল্পকে সম্পূর্ণ সফল করে বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে এখনও কয়েক দশক সময় লাগতে পারে। পাশাপাশি এত বড় প্রকল্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানোও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তবুও কৃত্রিম সূর্য তৈরির এই অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞান ও জ্বালানি গবেষণায় এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *