শ্যামবাজারে পার্ক ইনস্টিটিউশনের ৩০ পড়ুয়া অসুস্থ, খাদ্যে বিষক্রিয়ার আশঙ্কা

Spread the love

দুবেলা, রিয়া বিশ্বাস: জ্বর, পেটের সমস্যা, বমি-সহ একাধিক উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি পড়ুয়ারা। স্কুলে স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধি দল, সংগ্রহ করা হল খাবার ও জলের নমুনা।  শ্যামবাজারের পার্ক ইনস্টিটিউশনে অসুস্থ হয়ে পড়ল প্রায় ৩০ জন পড়ুয়া। অষ্টম থেকে নবম শ্রেণির একাধিক ছাত্রছাত্রী জ্বর, পেটে ব্যথা, পেটের সমস্যা, বমি-সহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অসুস্থ পড়ুয়াদের চিকিৎসার জন্য আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রাথমিকভাবে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে পড়ুয়ারা অসুস্থ হয়ে পড়ল, তা খতিয়ে দেখছে স্বাস্থ্য দফতর। ঘটনার খবর পেয়ে অসুস্থ পড়ুয়াদের দেখতে হাসপাতালে পৌঁছন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি পার্ক ইনস্টিটিউশনেও পৌঁছন স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধিরা। স্কুল থেকে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। একইসঙ্গে স্কুলের জলের ট্যাঙ্কও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

অভিভাবকদের একাংশের দাবি, স্কুলের জল থেকেই এমন সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, এর আগেও বেশ কয়েকবার স্কুলের জল পরিষ্কার করার কথা জানানো হয়েছিল। জল পরিষ্কার করার পর কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও ফের একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। অসুস্থ পড়ুয়াদের মধ্যে কারও পেটে ব্যথা, কারও জ্বর, আবার কারও বমির মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কয়েকজন পড়ুয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধিরা স্কুলে গিয়ে খাবারের নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি জলের ট্যাঙ্কও পরীক্ষা করছেন। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জলের ট্যাঙ্ক যথেষ্ট পরিষ্কার নয় বলেও স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে খাবার নাকি জল—ঠিক কোন উৎস থেকে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সংগৃহীত খাবার ও জলের নমুনা পরীক্ষার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

ঘটনার পর স্কুলের খাবার ও পানীয় জলের যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার উপর জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। ভবিষ্যতে যাতে পড়ুয়াদের এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়, সেজন্য স্কুলের খাবার, পানীয় জল এবং স্বাস্থ্যবিধির উপর নিয়মিত নজরদারি ও পর্যবেক্ষণের কথাও জানানো হয়েছে। এখন স্বাস্থ্য দফতরের পরীক্ষার রিপোর্টের দিকেই নজর। রিপোর্ট হাতে এলেই স্পষ্ট হবে, ঠিক কী কারণে একসঙ্গে এতজন পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়ল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *