দুবেলা, রিয়া বিশ্বাস: অসমে ফের প্রকৃতির ভয়ংকর রুদ্ররূপ। গত এক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ বন্যার সাক্ষী থাকল রাজ্য। প্রবল বর্ষণ এবং নদ-নদীর জলস্তর বিপদসীমার অনেক উপরে উঠে যাওয়ায় রাজ্যের অন্তত সাতটি জেলা কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। চারদিকে শুধুই জল আর ধ্বংসস্তূপ। বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন, প্রাণ হারিয়েছে অসংখ্য গবাদি পশু ও বন্যপ্রাণী। বহু জায়গায় ভেসে উঠছে মানুষ ও পশুর মৃতদেহ, যা পরিস্থিতিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।
বন্যার জেরে বহু বহুতল ও পাকা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। যেসব বাড়ির ছাদ রয়েছে, সেখানেই আশ্রয় নিয়েছেন বহু মানুষ। নিচের তলা সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে যাওয়ায় তাঁরা ছাদেই দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন, অপেক্ষায় রয়েছেন উদ্ধারকারী দলের। রাজ্য প্রশাসন, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি যৌথভাবে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ধীরে ধীরে বন্যার জল নামতে শুরু করেছে এবং আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে জল সরে যেতেই সামনে আসছে কাদায় ঢেকে থাকা ধ্বংসস্তূপ, ভেঙে পড়া বাড়িঘর এবং বিপুল ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এখনও দীর্ঘ সময় লাগবে বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা।
অসমজুড়ে এখন একটাই ছবি চারদিকে হাহাকার, ক্ষতি আর অনিশ্চয়তা। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার কাজে এগিয়ে এসেছে। পরিস্থিতির ওপর প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।
photo courtesy:https://www.instagram.com/p/DbLLGmuNjAT/
