দুবেলা, রিয়া বিশ্বাস: রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আনতে শুরু করেছেন। ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে সোমবার নবান্নে উচ্চপর্যায়ের প্রথম বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন একাধিক মন্ত্রী, শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক এবং দলীয় নেতৃত্ব। “ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে”— এই বার্তাকেই সামনে রেখে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকের শুরুতেই বিজেপির সেই সমস্ত কর্মীদের স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী, যাঁরা বাংলায় দলকে প্রতিষ্ঠা করার লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক হিংসায় নিহত ৩২১ জন কর্মীর পরিবারের পাশে রাজ্য সরকার থাকবে। তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা, আর্থিক সহায়তা এবং বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন,“যাঁরা বাংলায় গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই করেছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ কখনও ভোলা হবে না। প্রতিটি পরিবারের পাশে সরকার থাকবে।”
দ্বিতীয় বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতারের কাজ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স -এর হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেন তিনি। সরকারের মতে, সীমান্ত সুরক্ষিত হলে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে চালু করা হবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে বাংলায় বিজেপি সরকার গঠিত হলে সাধারণ মানুষের জন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প চালু করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের দিকেই প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।এর ফলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসার সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
চতুর্থ সিদ্ধান্ত হিসেবে জানানো হয়, কেন্দ্র সরকারের সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প দ্রুত রাজ্যে কার্যকর করা হবে। আবাস যোজনা, কৃষক সহায়তা, গ্যাস, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্পগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি সূত্রে খবর, কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন মূল লক্ষ্য।
পঞ্চম সিদ্ধান্ত হিসেবে রাজ্যে চালু করার কথা ঘোষণা করা হয় ভারতীয় ন্যায়া সংহিতা। প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং আরও কার্যকর করতে এই পদক্ষেপ সরকারি চাকরিতে বাড়ল বয়সসীমা বৈঠকের ষষ্ট এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালের পর থেকে বহু ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যত বন্ধ ছিল। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ বয়সসীমা পার করে গিয়েছেন। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বয়সসীমা পাঁচ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণায় রাজ্যের বহু চাকরিপ্রার্থী স্বস্তি পেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম বৈঠকের এই ছয় সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সমর্থকদের দাবি, বাংলা এবার “ডাবল ইঞ্জিন সরকারের” পথে এগোতে চলেছে। অন্যদিকে বিরোধীরা এই ঘোষণাগুলিকে রাজনৈতিক কৌশল বলেই কটাক্ষ করেছে। তবে নতুন সরকারের প্রথম বৈঠক থেকেই যে দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বার্তা দিতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

প্রতিমুহূর্তের খবর পেতে লাইক করুণ II দুবেলা নিউজ
