Bengal in a State of Siege Unprecedented Security by Central Forces at Nabanna

দুবেলা, সীমিত কুমার সেন: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিনেই রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্র নবান্ন-কে ঘিরে তৈরি হল অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। সকাল থেকে ভোটগণনায় ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে Bharatiya Janata Party (বিজেপি) প্রায় ১০০ আসনে এগিয়ে রয়েছে, যা শাসক All India Trinamool Congress (তৃণমূল কংগ্রেস)-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধান তৈরি করেছে। আর ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই প্রশাসনিক অন্দরে শুরু হয় তৎপরতা।
সূত্রের দাবি, সোমবার বেলা গড়াতেই Howrah-এর পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি শক্তিশালী দল নবান্ন এলাকায় টহল শুরু করে। শুধু বাইরের নিরাপত্তা বলয়ই নয়, ভবনের ভিতরেও মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, যা অত্যন্ত বিরল এবং তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নবান্নে ঢোকা ও বেরোনোর প্রতিটি পথেই বসানো হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। প্রতিটি গেটে চলছে কড়া নজরদারি, পরিচয় যাচাই ছাড়া কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, এই বিশেষ পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে একটি স্পষ্ট আশঙ্কা , প্রশাসনিক মূল ভবন বা বিভিন্ন সরকারি দফতর থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ফাইল সরিয়ে ফেলার সম্ভাবনা। সেই আশঙ্কা থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সরাসরি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা ডকুমেন্ট বাইরে চলে না যায়।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিনে প্রশাসনিক সদর দফতরে এই মাত্রার কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং তা রাজনৈতিক পরিস্থিতির গুরুত্বই তুলে ধরে। সাধারণত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বাহিনী মোতায়েন করা হলেও, প্রশাসনিক ভবনের ভিতরে সরাসরি নিরাপত্তা দেওয়া খুব কম ক্ষেত্রেই দেখা যায়।
এই পরিস্থিতিতে নবান্ন চত্বরে সাধারণ মানুষের প্রবেশ অনেকটাই সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। গোটা এলাকা কার্যত কড়া নিরাপত্তা বলয়ে আবদ্ধ। প্রশ্ন উঠছে যে এটি কি শুধুই নিরাপত্তা জোরদার করার পদক্ষেপ, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে আরও বড় কোনও প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক সংকেত? বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটাই জায়গা—নবান্ন।

প্রতিমুহূর্তের খবর পেতে লাইক করুণ II দুবেলা নিউজ
