শ্রেয়স আইয়ারের অজেয় পাঞ্জাবের পতন!

Spread the love

 

Simit Kumar Sen

দুবেলা, সীমিত কুমার সেন: ধুন্ধুমার ম্যাচ, অবিশ্বাস্য রানের বন্যা। চলতি আইপিএল মরশুম যেন প্রতিদিনই নতুন গল্প লিখছে। কখনও কেএল রাহুলের ১৫২ রানের বিস্ফোরণ, কখনও সুনীল নারিনের সুপার ওভারে দুই উইকেট, ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য একের পর এক রোমাঞ্চ উপহার দিচ্ছে এই টুর্নামেন্ট। তবে এত কিছুর মধ্যেও একদম অটল ছিল পাঞ্জাব কিংস। শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বে দলটিকে দেখে অনেকেই ভাবছিলেন, এ বছর হয়তো অজেয় থেকেই যাবে তারা। কিন্তু শেষমেশ সেই ধারায় ছেদ ফেলল রাজস্থান রয়্যালস। মরশুমের প্রথম হার মেনে নিতে হলো পাঞ্জাব কিংসকে, আর সেটাও এক রুদ্ধশ্বাস রান তাড়ার ম্যাচে। প্রথমে ব্যাট করে পাঞ্জাব তোলে ২০ ওভারে ২২২/৪, এক কথায় বিশাল স্কোর।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন ব্যাটাররা। মার্কাস স্টয়নিস মাত্র ২২ বলে ৬২ রানের ঝড় তোলেন, প্রভসিমরন সিং ৪৪ বলে ৫৯ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। সঙ্গে কুপার কনোলির ১৪ বলে ৩০ রানের ক্যামিও সব মিলিয়ে রাজস্থানের সামনে পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য দাঁড় করায় পাঞ্জাব। এই রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই পাল্টা আক্রমণে নামে রাজস্থান। ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল ২৭ বলে ৫১ রান করে ইনিংসের ভিত গড়ে দেন। এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ডোনোভান ফেরেইরা। মাত্র ২৬ বলে অপরাজিত ৫২ রানের ঝড় তুলে দলকে জয়ের একেবারে কাছে পৌঁছে দেন তিনি। পাশাপাশি ভাইভব সূর্যবংশীর ১৬ বলে ৪৩ রানের আগ্রাসী ইনিংস ম্যাচে নতুন মাত্রা যোগ করে। অধিনায়ক রিয়ান পরাগও এই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ রান করে দীর্ঘদিনের খারাপ ফর্ম কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিলেন।

শেষদিকে এসে আর কোনো ভুল করেনি রাজস্থান। ১৯.২ ওভারে ২২৮/৪ তুলে, হাতে ৬ উইকেট রেখে এবং ৪ বল বাকি থাকতেই জয় ছিনিয়ে নেয় তারা। পাঞ্জাবের বোলারদের মধ্যে যুজবেন্দ্র চাহাল ৩ উইকেট নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও, ডেথ ওভারে চাপ ধরে রাখতে পারেননি লকি ফার্গুসন বা আর্শদীপ সিংরা। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণ যেমন বদলাল, তেমনই পাঞ্জাব কিংসের দুরন্ত জয়ের ধারাতেও পড়ল প্রথম বিরতি। তবে এই হারকে শুধুই ধাক্কা বললে কম বলা হয়, কারণ এর আগে যেভাবে শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বে দলটি ধারাবাহিক সাফল্য তুলে এনেছে, তা এই মরশুমের অন্যতম বড় গল্প। একের পর এক শক্ত প্রতিপক্ষকে হারিয়ে পাঞ্জাব প্রমাণ করেছিল তারা কতটা পরিণত ও ভারসাম্যপূর্ণ দল। তাই এই পরাজয়কে অনেকেই দেখছেন শেখার জায়গা হিসেবে।

অন্যদিকে, রাজস্থান রয়্যালসের জন্য এই জয় শুধু দু’টি পয়েন্ট নয়, আত্মবিশ্বাস ফেরানোর এক বড় মঞ্চ। বড় রান তাড়া করার ক্ষমতা যে তাদের রয়েছে, তা আবারও পরিষ্কার হলো। তবে প্রশ্ন উঠছে শ্রেয়স আইয়ারের তুলনামূলক ধীর (১১১ স্ট্রাইক রেট) ইনিংস কি পাঞ্জাবের জন্য কাল হল? নাকি শেষের দিকে বোলিংয়ের ঘাটতি, বিশেষ করে ফার্গুসন ও আর্শদীপের ওভারে রান খরচ, সেটাই ম্যাচ হাতছাড়া করল? টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই সূক্ষ্ম পার্থক্যই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করে। আর এই ম্যাচ সেই বাস্তবতাকেই আরও একবার সামনে নিয়ে এল। আইপিএল মানেই অনিশ্চয়তার খেলা, আর এই ম্যাচ সেই সত্যিটাকেই আরও একবার সামনে নিয়ে এল। আগামী ম্যাচগুলিতে পাঞ্জাব কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়, আর রাজস্থান এই ফর্ম ধরে রাখতে পারে কি না, সেদিকেই এখন নজর ক্রিকেটমহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *