দুবেলা, রিয়া বিশ্বাস: ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রয়াত বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ভোর ৫টা ২০ মিনিটে গোয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
১৯৭৮ সালে ‘গমন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়জগতে পা রাখেন নানা পাটেকর। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একের পর এক চরিত্রে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ‘ক্রান্তিবীর’, ‘পারিন্দা’, ‘ওয়েলকাম’, ‘রাজনীতি’-সহ একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। গম্ভীর চরিত্র হোক কিংবা হাস্যরসাত্মক অভিনয়—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলীর পরিচয় দিয়েছেন এই অভিনেতা।
অভিনয়জীবনে একাধিক সম্মান চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য নানা পাটেকর তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে।
মারাঠি থিয়েটার দিয়ে শুরু হওয়া তাঁর শিল্পীজীবন পরবর্তীকালে হিন্দি চলচ্চিত্র জগতেও তাঁকে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়। মঞ্চাভিনয় থেকে বড় পর্দা—দীর্ঘ পথচলায় নিজের দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি প্রতিষ্ঠা অর্জন করেন। সাদামাটা জীবনযাপনেই ছিল পরিচয় খ্যাতি ও সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও নানা পাটেকরের জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ। প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে নিজের কাজের মধ্যেই তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ ছিলেন বলে পরিচিত। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, সাধারণ জীবনযাপন এবং অভিনয়ের প্রতি নিষ্ঠা তাঁকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছিল। থিয়েটারের প্রাথমিক দিন থেকে শুরু করে বলিউডে প্রতিষ্ঠা তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রা বহু শিল্পীর কাছে অনুপ্রেরণার।
শেষ দিন পর্যন্ত কাজের প্রতি নিষ্ঠা দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা পাটেকর বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি মঞ্চাভিনয় এবং সমাজকল্যাণমূলক কাজেও তাঁর ভূমিকা ছিল। অভিনয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও কাজের প্রতি নিষ্ঠা তাঁকে দর্শকদের কাছে স্মরণীয় করে রেখেছে। শোকস্তব্ধ চলচ্চিত্র মহল তাঁর প্রয়াণের খবরে চলচ্চিত্র জগৎ ও অনুরাগীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
নানা পাটেকর আজ আর আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু তাঁর অভিনীত চরিত্র, সংলাপ বলার স্বতন্ত্র ভঙ্গি এবং পর্দায় তাঁর উপস্থিতি থেকে যাবে দর্শকদের স্মৃতিতে। সময়ের সঙ্গে বদলাবে চলচ্চিত্রের ধারা, আসবে নতুন প্রজন্মের অভিনেতা—তবুও ভারতীয় সিনেমায় নানা পাটেকরের অবদান থেকে যাবে চিরস্মরণীয়। বিদায়, নানা পাটেকর। আপনার অভিনয়ের উত্তরাধিকার বেঁচে থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্মের দর্শকের হৃদয়ে।
